ইসলামে বন্ধুত্ব ও শত্র“তা

0
708
ইসলামে বন্ধুত্ব ও শত্র“তা
সামাজিক জীবনে চলতে গিয়ে মানুষের মধ্যে পরস্পরে বন্ধুত্ব যেমন হয়, তেমনি জন্ম নেয় শত্র“তাও। এক সময়ের বন্ধু পরিণত হয় শত্র“তে। আবার চিরশত্র“ও পরিণত হয় বন্ধুতে। বৈষয়িক বন্ধুত্ব ও শত্র“তা কোনোটাই স্থায়ী নয়। তবে ইসলামে বন্ধুত্ব ও শত্র“তার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। আপনার বন্ধুত্ব যেমন সীমারেখা অতিক্রম করা উচিত নয়, তেমনি শত্র“তাও মাত্রার বাইরে চলে যাওয়াও বাঞ্ছনীয় নয়। ইসলামের নির্দেশনা হলো আপনার বন্ধুত্ব ও শত্র“তা একমাত্র আল্লাহর কারণেই হবে। কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে তা আল্লাহর ওয়াস্তে হতে হবে। আবার শত্র“তাও একই কারণে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুত্ব কর ধীরে ধীরে।’ অর্থাৎ বন্ধুত্বের বেলায় বাড়াবাড়ি নয়। সংকীর্ণ মানসিকতায় নয়; বরং অবলম্বন করুন মধ্যপন্থা। কেননা একদিন আপনার এই বন্ধু শত্র“ হয়ে যেতে পারে। তেমনি শত্র“কেও শত্র“ ভাবুন ধীরে ধীরে। কেননা এমনও তো হতে পারে, এই শত্র“ একদিন আপনার বন্ধু হয়ে যাবে। মূলত বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার প্রকৃত রূপ-রস দুনিয়ার মাখলুকের মধ্যে নেই। রাসুল (সা.) বলতেন, ‘এ পার্থিব জগতে যদি আমি কাউকে সত্যিকারের বন্ধু বানাতাম, তাহলে আবু বকরকে বানাতাম।’ এর অর্থ হলো আবু বকরকেও আমি বন্ধু বানাইনি। কেননা সত্যিকার অর্থে বন্ধুত্ব বলতে যা বোঝায়, তা শুধু আল্লাহর সঙ্গে হতে পারে। এমন বন্ধুত্ব, যে বন্ধুত্ব হৃদয়কে আচ্ছন্ন করতে পারে, নিজের ইচ্ছা-আবেগ সব কিছু যে বন্ধুত্বের সামনে তুচ্ছ হয়ে যায়, সেই বন্ধুত্ব তো আল্লাহর সঙ্গেই হতে পারে। তিনি ছাড়া এমন বন্ধুত্ব আর কারো সঙ্গেই সঙ্গত হতে পারে না। রাসুল (সা.) দোয়া শিখিয়েছেন, ‘হে আল্লাহ! আপনার প্রতি ভালোবাসাকে জয়ী করুন। অন্যান্য ভালোবাসা যেন আপনার ভালোবাসার সামনে পরাজিত হয় সেই তওফিক দান করুন।’
আমরা অনেক সময় বন্ধুত্বের কারণে গুনাহের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি এবং ভাবি, বন্ধুর আবদার রক্ষা করতে হবে, না হয় সে মনে কষ্ট পাবে। অথচ এ ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো, যদি কারো মন রক্ষা করতে দ্বীন-শরিয়তকে পদদলিত করতে হয়, তাহলে মানুষের মন রক্ষা নয়; বরং শরিয়তকেই রক্ষা করতে হবে। তবে হ্যাঁ, যদি কারো মন রক্ষা করতে গেলে শরিয়ত পালনে কোনো সমস্যা না হয়, সে ক্ষেত্রে যথাসম্ভব একজন মুসলমানের মন রক্ষা করা উচিত। কারণ মুসলমানের মন রক্ষা করাও ইবাদত।

LEAVE A REPLY