কারাগারে খালেদা জিয়া কেমন আছেন, উদ্বিগ্ন রিজভী

0
289

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে ‘সাধারণ কয়েদীর মত রাখা হয়েছে’ বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে, যা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পরদিন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর এ বক্তব্য আসে।

তিনি বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে শুধু জানতে চাই, আমাদের চেয়ারপারসন কেমন আছেন, প্রিয় নেত্রী কেমন আছেন। আমরা সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছি তাকে সাধারণ কয়েদীর মতো রাখা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে কী ঘটছে, কী অবস্থা- আমরা কিছুই জানতে পারছি না।”

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত বৃহস্পতিবার জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। তার ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য ৫ আসামিকে দেওয়া হয় ১০ বছরের সাজা।

রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

নাজিমউদ্দিন রোড থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার দুই বছর আগে কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ায় পুরনো কারাগারে এখন খালেদা জিয়াই একমাত্র বন্দি।

সেখানে এখনও কারাগারের প্রশাসনিক দপ্তর থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে পরিত্যক্ত বলতে রাজি নয়।

তারা বলছেন, এটি এখন ‘বিশেষ’ কারাগার। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকে তারা প্রথম শ্রেণির বন্দির প্রাপ্য সব সুযোগ সুবিধাই দিচ্ছেন।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী সরকারের উদ্দেশে বলেন, “সাধারণ কয়েদীর মত রাখা হচ্ছে– এ কথা কেন সংবাদপত্রে আসছে? তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, এদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতা তিনি। আপনাদের রুচির এতটা নিম্নগামীতা কেন?”

এর মধ্যে দিয়ে সরকার দেশকে ‘নরকের দিকে’ ঠেলে দিচ্ছে মন্তব্য করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “আপনারা কী মনে করেন, এই হুঙ্কার, এই ধমক প্রতিদিন মানুষ শুনতে থাকবে আর হজম করতে থাকবে?”

রিজভী বরাবরের মতই অভিযোগ করেন, এ মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর কথা সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও সরকারদলীয় নেতারা গত দুই বছর ধরেই বলে আসছেন।

“অর্থাৎ, গতকালের যে রায়, এটা তো আগেই লিখে রাখা। আমরা যে বলেছিলাম, এটা তাদের প্রতিহিংসার প্রতিফলন, তা অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণ হয়েছে। … গতকাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পরেও দেখা গেছে সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের সঙ্গে বিচারক আখতারুজ্জামানের রায়ের হুবহু মিল রয়েছে।”

রিজভীর দাবি, দেশবাসী এই রায় ‘প্রত্যাখান’ করেছে এবং ‘নিন্দার ঝড়’ বইছে।

“বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করেছেন।”

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘দাম্ভিকতার’ বহিঃপ্রকাশ

খালেদা জিয়ার রায়ের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তার ‘দাম্ভিকতার’ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করেন রিজভী।

বৃহস্পতিবার রায়ের কয়েক ঘণ্টা পর বরিশালে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর বিএনপিনেত্রীর পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “তিনি আজ কোথায়?”

মানুষের ওপর অত্যাচার করলে তার বিচার এমনই হয় বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, “গতকাল প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশালের জনসভায় দাম্ভিকতার সাথে বলেছেন, কোথায় আজ খালেদা জিয়া। তার এই বক্তব্যে মনে হয়েছে বেগম জিয়াকে কারাগারে ঢুকিয়ে তার আত্মতৃপ্তি হয়েছে।

“তার বক্তব্যে উল্লাসের সুর ধ্বনিত হয়েছে। প্রতিহিংসার রায়ে সারা দেশ যখন বিষন্ন বেদনায় মুষড়ে পড়েছে তখন প্রধানমন্ত্রীর উল্লাসে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে সেটি ফরমায়েশি রায়।”

রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কতটা প্রতিশোধ পরায়ণ সেটা আগেও আপনারা দেখেছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে এক কাপড়ে কিভাবে তার স্বামী, যিনি স্বাধীনতার ঘোষক, সেই স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে। কিভাবে বালুর ট্রাক দিয়ে বার বার তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। এ সরকারের মানসিক নির্যাতনে অকালে ঝরে গেল তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। এভাবে কত নির্যাতন হয়েছে এই নেত্রীর ওপরে।

“আগামী সংসদ নির্বাচনের বৈতরণী পার করতেই শেখ হাসিনা আমাদের নেত্রী বেগম জিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, যত জেল-জুলুম-নির্যাতন করুন না কেন, দেশের জনগণের কাছে আপনার স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে গেছে। কোনো ফর্মুলাতেই আপনার মসনদ রক্ষা করতে পারবেন না।”

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সারাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে। দেখেননি চারিদিকে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র মহড়া, পুলিশের গুলি, ব্যারিকেড, তাণ্ডব উপেক্ষা করে গতকাল রাজধানীবাসী দেশনেত্রীর গাড়িবহরে যোগ দিয়েছিল। জনগণের প্রতিরোধে শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবেন।”

খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার হয়েছে দাবি করে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন রিজভী।

অন্যদের মধ্যে বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ, সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ মামুন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, জাসাস সহসভাপতি শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা উপস্থিত ছিলেন এ সংবাদ সম্মেলনে।

LEAVE A REPLY