কেন ঝুঁকি নিয়েই খেলানো হলো মুশফিক-ইমরুলকে?

0
412
musfik with imrul ill

বাংলাদেশের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বারবার একটা কথা বলে থাকেন, “দিনশেষে ক্রিকেট শুধুমাত্র একটি খেলা। তাই ক্রিকেট একটি জাতির জীবনের সবকিছু হতে পারে না। ” এই কথাটা একইসঙ্গে ব্যক্তিজীবনেও প্রযোজ্য নয় কি? নিউজিল্যান্ড সফরের শুরু থেকেই চোটে জর্জরিত বাংলাদেশ দল। তার মধ্যে দলের বাকীদের ব্যর্থতায় চোট আক্রান্তদের বারবার মাঠে নামানোতে আদৌ কী লাভ হচ্ছে?

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হয়েই অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিয়ে টেস্ট খেলতে নামলেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে খেলেছেন ১৫৯ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। সেই ইনিংস খেলতে গিয়ে আবারও আঙুলে চোট পেয়েছেন তিনি। ব্যাথা নিয়েই ব্যাট চালিয়ে গেছেন টাইগার অধিনায়ক। কিন্তু পরের দিন ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি। শরীর আর সায় দেয়নি। কিন্তু পঞ্চম দিন বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসে আবারও মাঠে নামতে হয় তাকে। তারপরের ঘটনা তো ইতোমধ্যেই সবাই জেনে গেছেন। অ্যাম্বুলেন্স করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মুশিকে। তবে ভালো খবর হলো গুরুতর কিছু ঘটেনি।

মাথায় বলের আঘাত নিয়ে হাসপাতাল থেকে আবারও বেসিন রিজার্ভের ড্রেসিং রুমে ফিরে আসেন মুশফিক। কিন্তু মাঠে নামার সৌভাগ্য হয়নি। কারণ ততক্ষণে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এবারের নিউজিল্যান্ড সফরে শুধু মুশফিকই এ নিয়ে তৃতীয়বার চোটে পড়লেন।

হার না মানা স্বভাবের আরও এক ক্রিকেটার হলেন ইমরুল কায়েস। চলতি সফরে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার চোটে পড়লেন তিনি। মুশফিকের অনুপস্থিতিতে গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে দাঁড়াতে হয় তাকে। টানা দেড়শ ওভার অসাধারণ কিপিং করেন ইমরুল। ৫টি ক্যাচ নিয়ে গড়েন নতুন বিশ্বরেকর্ড। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তামিমের আহ্বানে এক অপ্রয়োজনীয় শর্ট রান নিতে গিয়ে আবারও ইনজুরিতে পড়েন তিনি। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। আজ পঞ্চম দিনে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন তিনি। কিন্তু সঙ্গী পাননি। কিউইদের দ্বিতীয় ইনিংসে কিপিং করেন সাব্বির রহমান।

কিন্তু কেনই বা এতটা ঝুঁকি নিয়ে খেলাতে হলো তাদের? দুজনেই দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান। সামনে গোটা ক্যারিয়ার পড়ে আছে। এই দুজনকে এভাবে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়াটা মানতে পারছেন না অনেক ক্রিকেটপ্রেমীরা।  চোট ক্রিকেটের একটি অঙ্গ। দলের দু-একজন চোট পেলে বাকীদের তখন দায়িত্ব নিতে হয়। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার লোক কোথায় বাংলাদেশে? প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব যেমন দৃষ্টকটুভাবে ডাক মেরেছেন, তেমনি হাফ সেঞ্চুরি করে নিজের দায় সেরে দৃষ্টিকটুভাবেই বিদায় নিয়েছেন সাব্বির রহমান। ক্রিজে তখনও অসহায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ইমরুল কায়েস!

LEAVE A REPLY