পুরুষের নতুন জন্মনিয়ন্ত্রণ ইঞ্জেকশন, কাজ করবে ভায়াগ্রার বিকল্প হিসেবেও

0
412

men-injeksonপুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী উদ্ভাবনে বহুদিন ধরেই গবেষকরা চেষ্টা করছেন। তবে এতে এতদিন সাফল্যের মুখ না দেখলেও সম্প্রতি আশা জাগিয়েছে নতুন একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ ইঞ্জেকশন। আর এটির ফলে পুরুষের যৌনতার আকাঙ্ক্ষাও বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এটি বর্তমানে ট্রায়ালে রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে।

জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য পুরুষের দেহে প্রয়োগের কার্যকর ইঞ্জেকশনও তৈরি করেছেন গবেষকরা। এ ধরনের একটি ইঞ্জেকশনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে দীর্ঘ এক বছর ধরে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি নারীদের পিলের মতোই কার্যকর। এটি ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রে শুক্রাণুর সংখ্যা কমিয়ে দেয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

তবে ওষুধটির বছরব্যাপী ট্রায়াল চলাকালে পুরুষদের মাঝে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। এর মধ্যে আছে বিষণ্ণতা, ব্রণ ও যৌনতার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পাওয়া।

পুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত এ ইঞ্জেকশনটি মূলত হরমোন ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এতে ২ ধরনের হরমোন আছে। আর এগুলোই মস্তিষ্কে প্রভাব বিস্তার করে এবং শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। মূলত মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্ল্যান্ড ও টেস্টোস্টেরনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এ ওষুধটি।

এক বছরব্যাপী ট্রায়াল শেষ হওয়ার পর প্রতি ৪ জনে ৩ জন পুরুষ জানিয়েছেন তারা ওষুধটি পছন্দ করেছেন এবং তা চালিয়ে নিতে চান। মোট ২৬৬ দম্পতির মাঝে এ ওষুধটির ট্রায়াল পরিচালিত হয়েছে।

এ বিষয়ে গবেষকদের ১ জন ও গবেষণাপত্রটির সহ-লেখক মারিও ফেস্টিন। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কর্মরত। ফেস্টিন বলেন, ‘এ গবেষণায় হরমোন ব্যবহার করে পুরুষের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণ করা হয়েছে। এটি পুরুষ ব্যবহারকারীদের অপরিকল্পিত সন্তান ধারণের ঝুঁকি কমাবে।’

তবে তিনি আরও জানান, এ পদ্ধতি আরও বিস্তৃত আকারে ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবোলিজম এ।

LEAVE A REPLY