যুদ্ধাপরাধ: তিন আসামির ফাঁসি, পাঁচ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

0
382
tribunal

tribunalজামালপুরের ৮ রাজাকার-আলবদরের মধ্যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এক। ফাঁসির আদেশপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- আলবদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আশরাফ হোসাইন, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ও মোহাম্মদ আবদুল বারী। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- জামালপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অ্যাডভোকেট শামসুল আলম ওরফে বদর ভাই ও সাবেক জামায়াত নেতা এস এম ইউসুফ আলী, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. হারুন ও মোহাম্মদ আবুল হাসেম। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, আটক, অপহরণ, লুটপাট ও মরদেহ গুমের ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল ৩টিই প্রমাণিত হওয়ায় এসব সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল। আজ সোমবার সকালে একই মামলার ওই ৮ আসামির মামলার রায় দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক প্যানেলের অন্য ২ সদস্য হলেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী। সকাল পৌনে এগারটা থেকে ২৮৯ পৃষ্ঠার রায়ের ১ম অংশ পড়ে শোনান বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম। পরে রায়ের মূল অংশ অর্থাৎ আসামিদের সাজা ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক। রায় শোনাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে আসামির কাঠগড়ায় হাজির করা হয় গ্রেফতারকৃত ২ আসামি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম ওরফে বদর ভাই ও সাবেক জামায়াত নেতা এস এম ইউসুফ আলীকে। অন্য ৬ আসামি পলাতক। আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ২ জন মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। পলাতক বাকি ৬ জন ছিলেন আলবদর বাহিনীর। মামলাটির প্রধান আসামি পলাতক আশরাফ হোসেন আলবদর বাহিনীর জামালপুর মহকুমা কমান্ডার ছিলেন। তার মাধ্যমেই মূলত ইসলামী ছাত্রসংঘের বাছাই করা কর্মীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনী গঠিত হয়। ৮ রাজাকার-আলবদরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল জামালপুরে রাজাকার-আলবদর বাহিনী ও শান্তি কমিটি গঠন, স্থানীয় সাধনা ঔষধালয় দখল করে আলবদর বাহিনী ও শান্তি কমিটির কার্যালয় স্থাপন এবং সিংহজানি হাইস্কুলে আলবদরদের প্রশিক্ষণ প্রদান। এছাড়া ছিল পিটিআই হোস্টেল ও আশেক মাহমুদ কলেজের ডিগ্রি হোস্টেল দখল করে নির্যাতন কেন্দ্র গড়ে সেগুলোতে দশ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা-গণহত্যা, নির্যাতন  আটক, অপহরণ,ও গুম।

LEAVE A REPLY