যে বাধাগুলো নিজের পথে আনেন সফলকামীরা

0
681
computer

সবাই জানেন, সফলতা আসে কঠোর পরিশ্রম ও সহনশীলতার মাধ্যমে। কিন্তু এখানে আরো কিছু বিষয় অনেক সময়ই খেয়ালে থাকে না।

তা হলো, মানসিক ও আবেগীয় বিষয়। এটা অনেকভাবেই সহজে অর্জিত হয়। কিন্তু মানুষ একে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না। মানসিক স্বাস্থ্য গড়ে তুলতে হলে নিজের জীবনটা কিভাবে এগিয়ে নিতে চান, সে দিকে গভীর মনোযোগ দিতে হবে। আরো বুঝতে হবে, কি কি বিষয় ত্যাগ করতে চান। বিশেষজ্ঞরা এখানে ৯টি বড় বাধার কথা তুলে ধরেছেন। সফল মানুষরাও এসব বাধা তাদের পথে টেনে আনেন।

১. হিংসা: আনেক সময়ই বলা হয়, হিংসা হলো নিজের আশীর্বাদ না দেখে অন্যের আশীর্বাদকে গুরুত্ব দেওয়া। এক কথায় বলা যায়, হিংসাত্মক মনোভাব সফলতাকে ধ্বংস করে। আপনার কি নেই তার চেয়ে যদি কি আছে তার দিকে মনোযোগ দিতে পারেন, তবে সফলতা অনেক সহজ হয়ে আসবে। হিংসা এক ধরনের কল্পনাপ্রসূত অনুভূতি। অন্যের সফলতায় বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব আপনাকে কিছু দিতে পারে না।

২. নিখুঁত করার চেষ্টা: পৃথিবীর কোনো কিছুই নিখুঁত নয়। আবার কোন কাজই নিখুঁতভাবে করা যায় না। তাই এর পেছনে সময় দেওয়ার অর্থ, নিজেকে অপব্যবহারে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। তাই নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা নয়, সফলভাবে কোনো কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হয়। এতেই সফলতা আসে। অবশ্য এই মনোভাবে সফলতা নষ্ট হয় না। কিন্তু বিষণ্নতা ও মানসিক চাপ চলে আসে।

৩. তুলনা করা: সফল মানুষরা কখনো নিজেকে অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করেন না। তারা বোঝেন, এটা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। তবে আপনি কোথায় যেতে চান এবং কি হতে চান তার সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে পারেন।

৪. দোষারোপ করা: সফলতা ও অর্জন তাই যা আপনি নিজে করেছেন। তাই অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতা কিছু দেয় না। ব্যর্থতা আসে আপনার কারণেই, অন্যের জন্য নয়। আর ব্যর্থতা মেনে নিতে হয়।

৫. নিজেকে সন্দেহ করা: কত দূর যেতে পারবেন তা নিয়ে যদি নিজের ওপর সন্দেহ থাকে, তবে আত্মবিশ্বাস থাকবে না। এর চেয়ে চিন্তা করুন, আপনি কত জয়ই না ছিনিয়ে এনেছেন। কাজেই আপনিও পারবেন। নিজের ওপর সন্দেহ না এনে আত্মবিশ্বাসী থাকুন।

৬. ভীতি: ব্যর্থতায় যদি ভীত থাকেন, আপনি সফলভাবে কোনো কাজ করতে পারবেন না। এটা এমন এক অনুভূতি যা আপনাকে কোনো দিকে এগিয়ে নেবে না। কোনো কাজ করতেই সাহস থাকবে না।

৭. ক্ষোভ: এই অনুভূতি সব সময় বিরাজ করে মানুষের মনে। সফল হতে চাইলে ক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কাজেই এতে মনোযোগ ঢালুন। এতে তৃপ্তি আসে গভীরভাবে। ক্ষোভ সব অনুভূতিকে এলোমেলো করে দেয়। আপনি এ সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। তাই বাইরের যা কিছু আপনার ক্ষোভের কারণ হয়, তা থেকে মনোযোগ সরিয়ে রাখুন।

৮. নিরাপত্তা: অনেক মানুষই বলেন, জীবনে যা করেছেন তার জন্য কোনো আক্ষেপ নেই তাদের মনে। কিন্তু অনেক সময়ই তাদের বলতে শোনা যায়, যদি এমন করতে পারতাম… ইত্যাদি। আসলে আক্ষেপের বাজে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে নিজেকে নিরাপত্তা দিতে হবে। প্রতি সকাল যদি অনুতাপ নিয়ে শুরু হয় তো সফলতা আসবে না।

৯. অলসতা: নিজেকে পিছিয়ে নেওয়ার সর্বোত্তম উপায় এটি। হাত-পা ছেড়ে দিয়ে বসে থাকা। আর সবকিছু কিভাবে চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করে সময় কাটানো সবচেয়ে বাজে অভ্যাস। এ ছাড়া আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখাও একইরকম ক্ষতিকর। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

LEAVE A REPLY