সকল সূচি কাল সকালে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

0
213
hasina 16

দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামীকাল শুক্রবার, ৭ এপ্রিল সকালে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চারদিনের এ সরকারি সফরে ব্যস্ত সময় কাটাবেন তিনি।

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ রাজনৈতিক দলের প্রধান, সরকারের মন্ত্রী, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের কংগ্রেস পার্টির নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তার ছেলে রাহুল গান্ধী দেখা করবেন সফরে। শেখ হাসিনার সম্মানে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সকাল ১০টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১০৯৭ ভিভিআইপি ফ্লাইটটি নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে।

ফ্লাইটটির নয়াদিল্লি পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় দুপুর সাড়ে ১২টা। সেখানে ভারত সরকারের কর্তাব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাবেন।

বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহযোগে রাষ্ট্রপতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালীন সময় সেখানেই থাকবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরসূচিতে থাকা নির্ধারিত কর্মসূচিগুলোর বাইরেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাক্ষা‍তে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সফরের প্রথম দিন
সরকারি সফরের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে বিকেল সাড়ে ৪টায় রাষ্ট্রপতি ভবনের দক্ষিণ ড্রইংরুমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

সন্ধ্যায় ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে অভ্যর্থনা ও নৈশভোজে অংশ নেবেন হাসিনা।

সফরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন সবচেয়ে ব্যস্ত সময় কাটাবেন তিনি।

সফরের দ্বিতীয় দিন
দ্বিতীয় দিন (৮ এপ্রিল) সকাল ৯টায় রাষ্ট্রপতি ভবনের ‘ফোর কোর্টে’ রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার অনুযায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

সাড়ে ৯টায় গান্ধীর সমাধিসৌধ রাজঘাটের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় হায়দরাবাদ হাউজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করবেন।

দুপুর বেলা ১২টায় হায়দরাবাদ হাউজের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলাপ। সাড়ে ১২টার দিকে বলরুমে হবে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই। ৩৩টির মতো সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হতে পারে।

এরপর সেখানে হিন্দি ভাষায় অনুদিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মোড়ক উন্মোচন করা হবে। পৌনে একটার দিকে একই স্থানে যৌথ বিবৃতি দেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

হায়দরাবাদ হাউজের ব্যাংকুয়েট হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভোজে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা।

বেলা সাড়ে ৫টার দিকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে মানিকশো সেন্টারে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের সম্মাননা দেবেন শেখ হাসিনা। শহীদ পরিবারের সদস্যরা এ ক্রেস্ট নেবেন।

সন্ধ্যায় মওলানা আজাদ অ্যাভিনিউয়ে ভারতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হামিদ আনসারির সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা।

সফরের তৃতীয় দিন
সফরের তৃতীয় দিন রবিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে আটটার দিকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ ফ্লাইটে জয়পুর যাবেন শেখ হাসিনা। সোয়া ৯টা ১০ মিনিটে জয়পুর বিমানবন্দরে পৌঁছুবেন তিনি। ৯টা ২০ মিনিটের দিকে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে আজমীর শরীফের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।

আজমীর শরীফ জেয়ারতের পর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে জয়পুর বিমানবন্দর এবং সেখান থেকে বিশেষ ফ্লাইটে বেলা সোয়া ১টার দিকে নয়াদিল্লি ফিরবেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি আবাসস্থল রাষ্ট্রপতি ভবনে যাবেন।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কংগ্রেস পার্টির নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তার সঙ্গে ছেলে রাহুল গান্ধীও থাকার কথা।

সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রপতি ভবনের নর্থ ড্রইংরুমে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাড়ে ৭টার পর রাষ্ট্রপতি ভবনের অশোক‍া হলে সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর বাংকুয়েট হলে রাষ্ট্রপতি আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সফরের চতুর্থ দিন সোমবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শেখ হাসিনাকে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন সংবর্ধনা দেবে।

সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে হোটেল তাজ মহলের শাহজাহান হলে ব্যবসায়ীদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

বিকেল ৪টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১০৯৮ ভিভিআইপি ফ্লাইটে নয়াদিল্লি ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরে ভারত সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাবেন।

সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর।

প্রায় সাতবছর পর সরকারি সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গুরুত্বপূর্ণ এ সফর শুরুর আগে থেকেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ সরকারের উচ্চপদস্থরা দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী সংবাদ সম্মেলনে জানান, শেখ হাসিনার সফরে ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। তবে সামরিক কোনো চুক্তি হচ্ছে না, হবে সমঝোতা স্মারক।

এসব চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকের বেশিরভাগই বর্ডার হাট স্থাপন, তথ্য ও সম্প্রচার, বেসমারিক পারমাণবিক সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট ও মহাকাশ গবেষণা, ভূ-তাত্ত্বিক বিজ্ঞান, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা, ভারত প্রদেয় তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি), কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্পর্কিত বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY