সাবেক স্ত্রীর প্রতি আমার খোলা চিঠি

0
754
later waif

২৫ বছর সংসার করে ২০০৭ সালে বিচ্ছেদ নেন চ্যাড স্টোন এবং তার স্ত্রী। স্টোন একটি বই লিখেছেন যার নাম ‘দ্য লাভ ম্যাগনেট রুল: ১০১ টিপস ফর মিটিং, ডেটিং অ্যানআড কিপিং এ নিউ লাভ’।

এখানে স্টোন তার সাবেক স্ত্রীক প্রসঙ্গে একটা খোলা চিঠি তুলে ধরেছেন। বিগত সময়গুলোতে স্ত্রী স্বামীর জন্য যা যা করেছেন, সে জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছে এই আবেগপূর্ণ চিঠি।

তিনি এভাবেই সম্বোধন করেছেন- ‘ডিয়ার এক্স-ওয়াইফ’। এর পর যা লিখেছেন তার ভাষা অনেকটা এমন-

আমি তোমাকে বলতে চাই যে আমাদের নিয়ে আমি কতটা গর্বিত ছিলাম। সাবেক হলেও আমরা একসঙ্গে সত্যিই অনেক ভালো থেকেছি। ডিভোর্স নেওয়ার পর দুজনের প্রতি দুজনের আচরণ কেমন হবে সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো গাইডবুক ছিল না। কিন্তু ডিভোর্সের পরও আমাদের চরম সময়েও নিজেরা নিজেদের সামলে নিয়েছি।

আমরা এমন অনেক দেখেছি। দম্পতিরা ডিভোর্স নেওয়ার পর বাকি জীব একে অপরের জন্য তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েই বেঁচে থাকেন। নিজেদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য যেকোনো দম্পতির চেয়ে অনেক ভালো করেছি আমরা। তাই তুমি আমার প্রতি যে সদয় আচরণ করেছো তার জন্য তোমার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সুযোগটা নিচ্ছি।

এখানে আমি আরো তিনটি বিষয় শেয়ার করতে চাই। বিচ্ছেদের পরবর্তী জীবন যেভাবে কাটাচ্ছি আমরা তার জন্য আমি সত্যিই গর্বিত। এই বিষয়গুলোর জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে।

আমরা এক অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম: বিচ্ছেদকালের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ, হতাশা আর হৃদয় পোড়ার কারণে। কিন্তু আমাদের কেউ এসব প্রকাশ করিনি। আমরা সব সময় একে অপরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিবেচনা করেছি। আমি কখনোই তোমার প্রতি রুষ্ট ভাষায় কথা বলবো না কিংবা দোষ চাপবো না প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। তুমিও একই কাজ করেছো।

আমি জানি যে, আমাদের ছেলেরা বিচ্ছেদের পর কেমন জীবন কাটাচ্ছি তা দেখছে। তারা আমাদের কথা শুনেছে এবং আমাদের আদর্শ বাবা-মা বলেই মনে করছে। ডিভোর্সের পরের জীবনটাকে তাদের কাছে অভিযোগহীন করে তুলতে পারার জন্য আমি তোমাকে নিয়ে সত্যিই গর্বিত। পরের জীবনটা পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে।

বাবা-মা হিসাবে আমরা সফল: এটা নিয়েও আমি গর্বিত। আমরা আসলে ভাগ্যবান। আমাদের বিচ্ছেদের সময় ছেলেরা তাদের মতো করে আদর্শ উপায়ে বড় হয়ে উঠেছে। এমনকি পরেও আমরা দুজনই তাদের জীবনে বাবা-মা হিসাবে সক্রিয় রয়েছি। ছেলেরাও বাবা-মাকে আলাদাভাবে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন। আমাদের মধ্যে কে তাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারছি তা নিয়ে প্রতিযোগিতা নেই।

ছুটির দিন কাটাতে আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছি তা সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

পরের জীবনে দুজনই আরো শিখেছি: ডিভোর্সের পর দুজনই একে অপরের প্রতি তীব্র ক্ষোভ নিয়ে এবং কষ্ট নিয়ে সময় কাটাতে পারতাম। আমাদের জীবনের একটি অংশও শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমরা আশাবাদ ধরে রেখে এগিয়ে গেছি। আমরা আসলে প্রমাণ করেছি, বিচ্ছেদের পর সুখ ও সুযোগ আসতে পারে।

আমাগী গ্রীষ্মে যখন আমাদের ছোট ছেলে বিয়ে করবে তখন তিক্ত ও মিষ্টি অভিজ্ঞতায় মুহূর্ত কাটবে আমাদের। আমরা সেই ডিভোর্সি বাবা-মা যারা তার ছেলের বিয়ে উদযাপন করছে। সাবেক স্বামী-স্ত্রী হয়ে আমরা একে অপরকে যে শ্রদ্ধাবোধ, ভালোলাগা এমনকি ভালোবাসা দিয়ে অনুভব করতে পারি তা আবারো বন্ধু-পরিজনদের দেখিয়ে দেবো।

আমাদের নিয়ে আমি গর্বিত এবং এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

এভাবে তার খোলা চিঠি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন সাবেক স্ত্রীকে।

LEAVE A REPLY