হজ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নো উত্তর

0
398

রশ্ন : শুধু নিয়তের দ্বারা হজ ফরজ হবে কি?
উত্তর : না, শুধু নিয়তের দ্বারা হজ ফরজ হয় না।

সূত্র : ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২২২, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া : ৬/২২৪।

প্রশ্ন : সরকার অনুমতি না দিলে হজ ফরজ হয় কি?
উত্তর : সরকার অনুমতি না দিলে হজ ফরজ হয় ঠিকই, তবে আদায় করা ফরজ হয় না। পরবর্তী সময়ে সরকার অনুমতি দিলে আদায় করা ফরজ হবে।

সূত্র ফাতাওয়া শামী : ৩/৪৫৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২১৮, বাদায়ে সানায়ে : ২/২৯৫।

প্রশ্ন : শিল্পঋণ গ্রহীতা যার ঋণের পরিমাণ তার পুরো সম্পত্তির চেয়ে বেশি। তার ওপর হজ ফরজ হবে কি?
উত্তর : সাধারণ ঋণ (যা সঙ্কটের মুহূর্তে সাময়িক প্রয়োজন মেটানোর জন্য নেয়া হয় এবং তা স্বল্পমেয়াদি হয়) হজ ফরজ হওয়ার জন্য প্রতিবন্ধক হলেও শিল্পঋণ (যা ব্যবসার উদ্দেশে দীর্ঘ মেয়াদে নেয়া হয়) হজ ফরজ হওয়ার প্রতিবন্ধক নয়। সুতরাং সেই ঋণ পুরো সম্পদের চেয়ে বেশি হলেও গ্রহীতার ওপর অন্যান্য শর্ত পাওয়া যাইলে হজ ফরজ হবে।

সূত্র : ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২৮১, আল মাউসুআতুল ফিকহিয়া :১৭/৩১, মাসায়েলে হজ ও ওমরাহ : ৭২।

প্রশ্ন : এখন আমার ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত এ পরিমাণ টাকা আছে যার দ্বারা হজ করা যায়। কিন্তু যদি এ টাকা দিয়ে ব্যবসা না করে হজ করে ফেলি তাহলে আয়-উপার্জনের পথ এক ধরনের বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় আমার ওপর হজ ফরজ হবে কি?
উত্তর : যদি প্রকৃত অবস্থা এমনই হয় যে, ওই টাকা দিয়ে ব্যবসা না করে হজ করলে আপনার আয়-উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে এ অবস্থায় আপনার ওপর ওই টাকার কারণে হজ ফরজ হবে না। কারণ টাকাটা আপনার কাছে ব্যবসার মূলধনের মতো, যা আপনার প্রয়োজনীয় মালের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে টাকাটা যেন এ পরিমাণ না হয়, যা দ্বারা ব্যবসা করলে আপনার ও আপনার পরিবারের পর্যাপ্ত খরচ বহনের চেয়ে অতিরিক্ত হয়। এমন হলে ওই টাকার কারণে আপনার ওপর হজ ফরজ হবে।

সূত্র : ফাতাওয়া হিন্দিয়া/তাতারখানিয়া : ২/৩২৭, আল মাউসুআতুল ফিকহিয়া : ১৭/৩২, বাদায়ে সানায়ে : ২/২৯৮।

প্রশ্ন : যার কাছে লোকজন টাকা পায় এমন ব্যক্তির জন্য পাওনাদারদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে হজে যেতে হবে কি?
উত্তর : ঋণী ব্যক্তির কর্তব্য হলো, হজে যাওয়ার আগে পাওনাদারদের সঙ্গে লেনদেন পরিষ্কার করা। তাদের অনুমতি ব্যতীত হজে যাওয়া মাকরুহ। তবে হজ করলে তা আদায় হয়ে যাবে।

সূত্র ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২২১, খাইরুল ফাতাওয়া : ৪/১৭৫।

প্রশ্ন : হজে যেতে হলে মহিলাদের জন্য স্বামীর অনুমতি নেয়া আবশ্যক কি?
উত্তর : যদি হজ ফরজ হওয়ার শর্তাবলি পাওয়া যায়, তাহলে স্বামীর অনুমতি নেয়া আবশ্যক নয়, তবে মুস্তাহাব। অবশ্য নফল বা বদলি হজের ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি নেয়া আবশ্যক। এক্ষেত্রে স্বামীর বাধা দেয়ার অধিকার আছে। তবে সব ক্ষেত্রেই সে মাহরাম ব্যতীত হজে যেতে পারবে না।

সূত্র : আদ-দুররুল মুখতার : ২/২০০, আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু : ৩/২৫।

প্রশ্ন : কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের মাধ্যমে যদি কর্মচারীদের হজ করানো হয়, তাহলে কি সেটা ফরজ হজ হিসেবে আদায় হবে? নাকি নফল হবে?
উত্তর : তা আদায়কারীদের পক্ষ থেকে ফরজ হজ হিসেবে আদায় হবে। কারণ যে টাকা তাকে দেয়া হয়েছে, তা অনুদান হিসেবে দেয়া হয়েছে। নফল কিংবা বদলি হজের জন্য নয়। সুতরাং এ হজের দ্বারা সে ফরজ হজ থেকে দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে।

সূত্র : আদ-দুররুল মুখতার : ২/৪৬০, তাতারখানিয়া : ২/৪৩৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২১৭।

LEAVE A REPLY